মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

মুন্সিগঞ্জের দর্শনীয় স্থান

অতীশ দীপঙ্করের পন্ডিত ভিটা:

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার বৎসর পূর্বে ৯৮২ সালে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করমুন্সীগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৪ মাইল পশ্চিম/দক্ষিণ কোনে বজ্রযোগিনী গ্রামেরপন্ডিত ভিটায় জন্মগ্রহণ করেন। অতীশ দীপঙ্করের বাসভবনটিই এখন পন্ডিতের ভিটাহিসাবে খ্যাত। দীপঙ্করের বাস্তভিটার এক কোনে একটি জরাজীর্ণ মঠেরধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ত্ব আছে। প্রতি বছর দেশ-বিদেশ হতে অনেক পর্যটক এইপন্ডিত ভিটা দেখার জন্য আগমন করেন।

বেজগাঁও মঠ:

লৌহজং উপজেলার বেজগাঁও ইউনিয়নে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে এই মঠটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। কখিত আছে জনৈক এক জমিদার মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রীও সহমরমে যেতে বাধ্য হয়। এই মঠটি সতীদাহ প্রথার সাথে সম্পর্কিত একটি মঠ হিসাবেও পরিচিত।

বাবা আদমের মসজিদ:

বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপালগ্রামের নিকটস্থ কাজীকসবা গ্রামে সুলতানী আমলের একটি ছয় মিনারমসজিদ আছে।এর গজ কয়েক পূর্বে আছে একটি মাজার। মাজারটি ২৫ (পঁচিশ) ফুট বাহুবিশিষ্টবর্গাকার আয়তনের ইটের তৈরী মঞ্চের উপর একটি পাকা সমাধি বিশেষ।  

মসজিদটি আয়তাকার ভিত্তিভূমির উপরপ্রতিষ্ঠিত। উত্তর-দক্ষিণে এর আয়তন ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট। চারকোণায় চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মিনার ছাদের কার্ণিশের উপরউঠেনি। মিনারের ধাপে ধাপে মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় অলংকরণের কাজ আছে।

পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অর্ধবৃত্তা-কার অবতলমেহরাব। কেন্দ্রী মেহরাবের পেছনদিকের দেয়াল বাইরের দিকে উদগত। সামনেরদেয়ালের ধনুকাকৃতির খিলানবিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথে আয়তাকারে নির্মিত যে সবফ্রেম আছে তার শীর্ষদেশে অতি সুন্দর কারুকাজ আছে। প্রধান প্রবেশপথের দুইপাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী। উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। ঝুলন্ত শিকল ওঘন্টার অলংকরণ রয়েছে।মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তরভাগে আছে গ্রানাইটপাথরে নির্মিত দুইটি স্তম্ভ। অভ্যন্তরভাগ এই দুইটি স্তম্ভের সাহায্যে পূর্বপশ্চিমে দুই সারিতে এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। স্তম্ভ দুইটিমাঝ থেকে ৪ (চার) ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকৃতির এবং এর পর ষোলকোণাকৃতির। এইদুইটি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের উপর মসজিদের অর্ধবৃত্তাকার ছোট ছোটমিনার ছয়টি স্থাপিত। মিনার ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমেদুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। দেয়াল অতিশয় পুরু।প্রধানমেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সাও ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি অত্যন্ত সুন্দর পোড়ামাটিরচিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত।মসজিদের বাইরের দিক বিশেষ করে সামনের দেয়াল অতিসুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত ছিল। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দুইপাশেকিছু কিছু চিত্রফলকের কাজ এখনও চোখে পড়ে।

এক সময়ে মানত হাসিলের জন্য হিন্দু-মুসলিমউভয় সমপ্রদায়ের মহিলাদের দ্বারা এই মসজিদের স্তম্ভ দুইটি সিন্দুরানুলিপ্তহয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল।

আমাদের আলোচ্য এই মসজিদটি দরগাবাড়ীর মসজিদবা বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজারটি বাবা আদমের দরগা নামে পরিচিত। বাবা আদমসম্পর্কে বিক্রমপুরে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। তবে জনশ্রুতিগুলোর সবাইবাবা আদম ও বল−াল সেনের যুদ্ধ সম্পর্কীয়।