মেনু নির্বাচন করুন

আউটশাহী মঠ ও বাবা আদমের মসজিদ

আউটশাহী মঠ

টংগীবাড়ী উপজেলার আউটশাহী গ্রামে মঠটির অবস্থান। গ্রামটি খুব বিখ্যাত এবং বিক্রমপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এখানে শতবর্ষ পুরনো বিদ্যালয় আছে। ঊনবিংশ শতক থেকেই এ গ্রামের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এটি মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত। এখানকার একাধিক প্রত্নকীর্তির মধ্যে আউটশাহী মঠ অন্যতম। অনেক দূর থেকেই মঠটির প্রতি দৃষ্টি আটকে গিয়েছিল। কাছে গিয়ে বুঝলাম, যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও সুন্দর স্থাপত্যকর্ম এটি। মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ প্রতিবেদন (মোঃ আবু মুসা ২০০০, পৃ. ১৭) অনুযায়ী এটি শিখর ধরনের মন্দির। আট কোণাকার এ মঠটি দক্ষিণমুখী। এর দেয়ালের পুরুত্ব ১/১০ মিটার। এর প্রতি পাশ বাইরের দিক দিয়ে ২.৫৫ মিটার। আট কোণাকার এ ইমারতটি ৩.৬০ মিটার উচ্চতা থেকে ক্রমেই সরু হয়ে ১৯ মিটার উঁচুতে উঠে শীর্ষভাগে গিয়ে পিরামিডের মতো মিলেছে। এর চারপাশেই খিলান আকৃতির নকশা। শীর্ষভাগে রয়েছে লৌহশলাকা খচিত একটি পাত্র। একমাত্র প্রবেশপথটি খাঁজকাটা নকশায় শোভিত।

 

বাবা আদমের মসজিদ

বিক্রমপুরের ইতিহাস প্রসিদ্ধ রামপাল গ্রামের নিকটস্থ কাজীকসবা গ্রামে সুলতানী আমলের একটি ছয় মিনার মসজিদ আছে।এর গজ কয়েক পূর্বে আছে একটি মাজার। মাজারটি ২৫ (পঁচিশ) ফুট বাহুবিশিষ্ট বর্গাকার আয়তনের ইটের তৈরী মঞ্চের উপর একটি পাকা সমাধি বিশেষ।  

মসজিদটি আয়তাকার ভিত্তি ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত। উত্তর-দক্ষিণে এর আয়তন ৪৩ ফুট এবং পূর্ব-পশ্চিমে ৩৬ ফুট। চারকোণায় চারটি অষ্ট কোণাকৃতির বুরুজ বা মিনার। মিনার ছাদের কার্ণিশের উপর উঠেনি। মিনারের ধাপে ধাপে মনোরম বলয়াকারের স্ফীত রেখায় অলংকরণের কাজ আছে।

পশ্চিম দেয়ালে তিনটি অর্ধবৃত্তা-কার অবতল মেহরাব। কেন্দ্রী মেহরাবের পেছন দিকের দেয়াল বাইরের দিকে উদগত। সামনের দেয়ালের ধনুকাকৃতির খিলান বিশিষ্ট তিনটি প্রবেশপথে আয়তাকারে নির্মিত যে সব ফ্রেম আছে তার শীর্ষ দেশে অতি সুন্দর কারুকাজ আছে। প্রধান প্রবেশ পথের দুইপাশে গভীর সমতল কুলুঙ্গী। উপরিভাগ সুন্দরভাবে খাঁজকাটা। ঝুলন্ত শিকল ও ঘন্টার অলংকরণ রয়েছে। মসজিদে কোন বারান্দা নেই। অভ্যন্তরভাগে আছে গ্রানাইট পাথরে নির্মিত দুইটি স্তম্ভ। অভ্যন্তরভাগ এই দুইটি স্তম্ভের সাহায্যে পূর্ব-পশ্চিমে দুই সারিতে এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। স্তম্ভ দুইটি মাঝ থেকে ৪ (চার) ফুট পর্যন্ত অষ্টকোণাকৃতির এবং এর পর ষোলকোণাকৃতির। এই দুইটি স্তম্ভ এবং চারপাশের দেয়ালের উপর মসজিদের অর্ধবৃত্তাকার ছোট ছোট মিনার ছয়টি স্থাপিত। মিনার ও মসজিদের অভ্যন্তর-ভাগের মতোই পূর্ব-পশ্চিমেদুই এবং উত্তর-দক্ষিণে তিন সারিতে বিভক্ত। দেয়াল অতিশয় পুরু।প্রধান মেহরাবটি এবং দুই পাশের দুই মেহরাব ও পাশের দেয়াল লতাপাতা, জ্যামিতিক নক্সাও ও গোলাপফুল, ঝুলন্ত প্রদীপ ও শিকল প্রভৃতি অত্যন্ত সুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত। মসজিদের বাইরের দিক বিশেষ করে সামনের দেয়াল অতিসুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলক দিয়ে অলংকৃত ছিল। কেন্দ্রীয় প্রবেশপথের দুই পাশে কিছু কিছু চিত্রফলকের কাজ এখনও চোখে পড়ে।এক সময়ে মানত হাসিলের জন্য হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মহিলাদের দ্বারা এই মসজিদের স্তম্ভ দুইটি সিন্দুরানু লিপ্ত হয়ে রক্তবর্ণ ধারণ করেছিল।আমাদের আলোচ্য এই মসজিদটি দরগা বাড়ীর মসজিদ বা বাবা আদমের মসজিদ এবং মাজারটি বাবা আদমের দরগা নামে পরিচিত। বাবা আদম সম্পর্কে বিক্রমপুরে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে।