মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

ইদ্রাকপুর কেল্লা

ইদ্রাকপুর কেল্লাঃ

মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরেরকালের সাক্ষী অনেক ইমারতের মধ্যে একটি হলো ইদ্রাকপুর কেল্লা। মুঘলশাসনামলে বিখ্যাত বারো ভূঁইয়ারা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাধীনভাবে দেশশাসন করতেন। বারো ভুইয়াদের অন্যতম ছিলেন বিক্রমপুরের চাঁদরায়, কেদার রায়।চাঁদ রায়-কেদার রায়দের শায়েস্তা করার লক্ষ্যে মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর নামকস্থানে মুঘল ফৌজদার একটি কেল্লা নির্মাণ করেন। ধলেশ্বরী-ইছামতিরসংগমস্থলে চাঁদরায় ১৬১১ খ্রি. ডাকচেরা ও যাত্রাপুর দুর্গ হারিয়ে পরাজিত হন।ফলে সমগ্র বিক্রমপুর মুঘলদের শাসনে চলে আসে। বিশাল বিক্রমপুরে মুঘলদেরকরতলে রাখতে এবং বিদেশি সৈন্যদের হাত থেকে সুবে-বাংলার রাজধানী ঢাকাকেরক্ষার জন্য মুন্সীগঞ্জের ইদ্রাকপুর নামক স্থানে মুঘল সুবেদার মীর জুলমা১৬৬০ খ্রি. একটি দুর্গ বা কেল্লা নির্মাণ করেন। কেল্লাটি লালবাগের চেয়েছোট হলেও গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি। ১৬৬০ সালে ইদ্রাকপুর এলাকাটিইছামতি-ধলেশ্বরী, ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা ও শীতলক্ষ্যার সংগমস্থল ছিল।মেঘনা-ব্রহ্মপুত্র, ইছামতি ও ধলেশ্বরীর গতি পরিবর্তনের ফলে ওফৎধশঢ়ঁৎ ঋড়ৎঃএখন মুন্সীগঞ্জ শহরের কেন্দ্রস্থল মাকহাটী-কাচারী সড়কের পশ্চিম পাশেকোর্টগাঁও এলাকায় অবস্থিত। চতুর্দিকে প্রাচীর দ্বারা আবৃত দুর্গের মাঝেমূল দুর্গ ড্রামের মধ্যে। দুর্গের প্রাচীর শাপলা পাপড়ির মতো। প্রতিটিপাপড়িতে ছিদ্র রয়েছে। ছিদ্র দিয়ে কাঁসার ব্যবহার করা হতো। দুর্গের উত্তরদিকে বিশালাকার প্রবেশদ্বার রয়েছে। সিঁড়ি দিয়ে মূল দুর্গের চূড়ায় উঠা যায়।মূল ভূমি হতে ২০ ফুট উঁচু। দেয়ালের বর্তমান উচ্চতা প্রায় ৪/৫ ফুট।প্রাচীরের দেয়াল ২-৩ ফুট পুরো। দুর্গে প্রবেশদ্বারের উত্তর পাশে একটিগুপ্ত পথ রয়েছে। কথিত আছে, এ গুপ্ত পথ দিয়ে লালবাগ কেল্লায় যাওয়া যেত। তবেএর সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে গুপ্ত পথ দিয়ে লালবাগ কেল্লায় নয়, অন্য কোথাওপালানো যেত। ২১০দ্ধ২৪০ ফুট আয়তনের এ দুর্গখানি এখনো অক্ষত অবস্থায়দাঁড়িয়ে আছে। ইদ্রাকপুর কেল্লা খুব সম্ভবত ১৬৫৮ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হয়এবং ১৬৬০ সালে তা শেষ হয়। কেল্লাটি দুই ভাবে বিভক্ত। পশ্চিমাংশ ও পূর্বাংশ।ড্রামের মধ্যখান বরাবর একটি ৫ ফুট উচ্চতার দেয়াল রয়েছে। প্রাচীরের উত্তরপাশে কামান বসানোর তিনটি মঞ্চ। দক্ষিণ পাশেও তিনটি থাকার কথা কিন্তুসেখানে রয়েছে ২টি। দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের মঞ্চটি হয়তো ভেঙে গেছে। দুর্গেপ্রবেশের মূল পথটি উত্তর পাশে। এই দুর্গটি হতে আবদুল্লাপুরে মঙ্গত রায়েরবিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রেরীত হয়েছিল। মীর জুমলার সেনাপতি সদলি খান ও মগ রাজামঙ্গত রায় উভয়েই মারা যান। মঙ্গত রায় শাহ সুজার সেনাপতি ছিলেন বলে অনেকেধারণা করেন। ইদ্রাকপুর কেল্লায় আবুল হোসেন নামে একটি সেনাধ্যক্ষসার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকতেন। আবুল হোসেন ছিলেন নৌ বাহিনীর প্রধান। তারনিয়ন্ত্রণে ২০০ নৌযান পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী ও ইছামতির তীরে প্রস্তুতথাকত। যে সব নৌযান ইদ্রাকপুর কেল্লার নিয়ন্ত্রণে থাকত তা হলো কোষা, জলবা, গুরব, পারিন্দা, বজরা, তাহেলা, সলব, অলিল, খাটগিরি ও মালগিরি।ইদ্রাকপুর কেল্লার নিয়ন্ত্রণে যে সব পদাতিক বাহিনী ছিল তার প্রধান ছিলেনসদলি খান। এক সময় ইদ্রাকপুর দুর্গে মহকুমা প্রশাসনের বাস ভবন (১৮৪৫-১৯৮৪)ছিল। ১৯৮৪-৮৯ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবন ছিল।পরবর্তীতে এটা সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগরে আওতাভুক্ত হয়। ঐতিহাসিক এই দূর্গটি সংস্কারকরন কাজ চলছে।