মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

অতীশ দীপঙ্করের পৈত্রিক ভিটা (পন্ডিতের ভিটা)

অতীশ দীপঙ্করের পন্ডিত ভিটা:

 

 

আজ থেকে প্রায় ১ হাজার বৎসর পূর্বে ৯৮২ সালে শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ৪ মাইল পশ্চিম/দক্ষিণ কোনে বজ্রযোগিনী গ্রামের পন্ডিত ভিটায় জন্মগ্রহণ করেন। অতীশ দীপঙ্করের বাসভবনটিই এখন পন্ডিতের ভিটা হিসাবে খ্যাত। দীপঙ্করের বাস্তভিটার এক কোনে একটি জরাজীর্ণ মঠের   ধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ত্ব আছে। কয়েক বছর আগে তাঁর জন্ম সহস্রবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এখানে একটি মঠ নির্মাণ করা হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিফলক।অতি সম্প্রতি অতীশ দীপংকরের নামে পাশেই একটি অডিটোরিয়াম নির্মাণ করা হয়েছে।প্রতি বছর দেশ-বিদেশ হতে অনেক পর্যটক এই পন্ডিত ভিটা দেখার জন্য আগমন করেন।মহামহোপাধ্যায় সতীশ্চন্দ্র বিদ্যাভূষণ মতানুসারে পালযুগে মগধের পূর্ব সীমান্তবর্তী প্রদেশ অঙ্গদেশের পূর্ব প্রান্তের সামন্তরাজ্য সহোর, যা অধুনা ভাগলপুর নামে পরিচিত, তার রাজধানী বিক্রমপুরীতে সামন্ত রাজা কল্যাণশ্রীর ঔরসে রাণী প্রভাবতী দেবীর গর্ভে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে অতীশ দীপঙ্করের জন্ম হয়। কিন্তু কিছু ঐতিহাসিকের মতে তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার অন্তর্ভুক্ত বিক্রমপুর পরগনার বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।ছোটবেলায় তাঁর নাম ছিল আদিনাথ চন্দ্রগর্ভ। তিন ভাইয়ের মধ্যে অতীশ ছিলেন দ্বিতীয়।তার অপর দুই ভাইয়ের নাম ছিল পদ্মগর্ভ ও শ্রীগর্ভ। অতীশ খুব অল্প বয়সেবিয়ে করেন। কথিত আছে তার পাঁচ স্ত্রীর গর্ভে মোট ৯টি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেন।বে পুন্যশ্রী নামে একটি পুত্রের নামই শুধু জানা যায়। প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন মায়ের কাছে। তিন বছর বয়সে সংস্কৃত ভাষায় পড়তে শেখা ও১০ বছর নাগাদ বৌদ্ধ ও অবৌদ্ধ শাস্ত্রের পার্থক্য বুঝতে পারার বিরল প্রতিভা প্রদর্শন করেন তিনি। মহাবৈয়াকরণ বৌদ্ধ পণ্ডিত জেত্রির পরামর্শ অনুযায়ী তিনি নালন্দায় শাস্ত্র শিক্ষা করতে যান।১২বছর বয়সে নালন্দায় আচার্য বোধিভদ্র তাঁকে শ্রমণ রূপে দীক্ষা দেন এবং তখন থেকে তাঁর নাম হয়দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। ১২ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বোধিভদ্রের গুরুদেব অবধূতিপাদের নিকট সর্ব শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেন। ১৮ থেকে ২১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি বিক্রমশীলা বিহারের উত্তর দ্বারের দ্বারপন্ডিত নাঙপাদের নিকটতন্ত্র শিক্ষা করেন। এরপর মগধের ওদন্তপুরী বিহারে মহা সাংঘিক আচার্যশীল রক্ষিতের কাছে উপসম্পদা দীক্ষা গ্রহণ করেন।ধর্মীয় জ্ঞানার্জনের জন্যতিনি পশ্চিম ভারতের কৃষ্ণগিরি বিহারে গমন করেন এবং সেখানে প্রখ্যাত পন্ডিতরাহুল গুপ্তের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। বৌদ্ধ শাস্ত্রের আধ্যাত্নিকগুহ্যাবিদ্যায় শিক্ষা গ্রহণ করে ‘গুহ্যজ্ঞানবজ্র’ উপাধিতে ভূষিত হন।দীপঙ্কর ১০১১ খ্রিস্টাব্দে শতাধিক শিষ্যসহ মালয়দেশের সুবর্ণদ্বীপে (বর্তমানে সুমাত্রা দ্বীপ) গমন করেন এবং আচার্য ধর্মপালের কাছে দীর্ঘ ১২ বছর বৌদ্ধ দর্শনশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ের উপর অধ্যয়ন করে স্বদেশে ফিরে আসার পর তিনি বিক্রমশীলা বিহারে অধ্যাপনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।