Wellcome to National Portal
মেনু নির্বাচন করুন
Main Comtent Skiped

ভাষা ও সংকৃতি

      বাংলাদেশের  মানচিত্রে  মুন্সীগঞ্জের  অবস্থান দেখতে  অনেকটা কেন্দ্রীয় দ্বীপের মত। দক্ষিণে  পদ্মা, পূর্বে মেঘনা , উত্তরে  ধলেশ্বরী  শীতলক্ষ্যা ও পশ্চিমে কালিগঙ্গা এবং আড়িয়াল বিল এ জেলাকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার কারনে  এখানে  পৃথক এক উপভাষা  গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্য , শিক্ষা সংস্কৃতি, এবং পেশাগত প্রয়োজনে অন্যান্য উপভাষী  অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত    এবং বসবাসের কারনে ভাষাগত আদান প্রদান ও ভাষারীতির গ্রহন বর্জনের  মাধ্যমে  আজ উপভাষা হয়ে উঠেছে মিশ্র ভাষা । মুন্সীগঞ্জ জেলা রাজধানী  ঢাকার নিকটবর্তী হওয়ার কারনে  ঢাকায় প্রচলিত  প্রত্যন্ত অঞ্চলের উপভাষার  সঙ্গে বিনিময় হয়েছে খুব বেশী।  মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া পূর্বে  কুমিল্লা জেলার  অন্তর্গত ছিল বলে  তা কুমিল্লা অঞ্চলের ভাষা দ্বারা প্রভাবিত।

     ভৌগলিক ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ের  বিবেচনায়  মুন্সীগঞ্জ( বিক্রমপুর) একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল। এক সময়ে বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা বাণিজ্য ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই নিরংকুশ প্রভাব রেখেছিল  সমগ্র বঙ্গের উপর। অতীতকাল থেকেই মূলত ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র  হিসেবে প্রসিদ্ধ লাভ করলেও সংগীত , নাটক, নৃত্য , সাহিত্য চর্চার মধ্য  দিয়ে কর্মচঞ্চল মুন্সীগঞ্জের সংস্কৃতিমনা প্রতিটি মানুষের জীবন। এখানকার পদ্মা ,মেঘনা, ধলেশ্বরীর বাঁকে বাঁকে গড়ে ওঠা জনপদের মানুষ , তাদের জীবন ও জীবিকা, সুখ-দু:খ , হাসি -কান্না এসব নিয়ে গড়ে উঠেছে মুন্সীগঞ্জের সংস্কৃতিক পরিমন্ডল। এক সময়  শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় , যাযাবর , মানিক বন্দোপাধ্যায়, সত্যেন সেন এর মত বড় মানের সাহিত্যিকদের পদচারনা ও বর্তমান সময়ে ড. হুমায়ুন আজাদ, রাবেয়া খাতুন ও ইমদাদুল হক মিলন শুধু মুন্সীগঞ্জকেই নয় বাংলাদেশ ও বাংলা সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ। পঞ্চাশ হতে ষাট দশকে যারা একক প্রচেষ্টায় সংগীতের  ক্ষীণ ধারাটি ধরে রেখেছিলেন  তারা হলেন  বদরে আলম ও সদানন্দ বারুলী। প্রাক স্বাধীনতা যুগে মুন্সীগঞ্জের সংগীত চর্চা ছিল গুটি কয়েক পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্বাধীনতা উত্তরকালে শহরের হরিন কুটিরের দোতলায়  প্রতিষ্ঠা হয়েছিল মুন্সীগঞ্জের প্রথম সংগীত স্কুল ‘‘বাঁশরী সংগীত বিদ্যালয়’’ । এটি প্রতিষ্ঠার পেছনে অবদান রেখেছেন অধ্যাপক সুনির্মল  চক্রবর্তী , জয়ন্ত কুমার স্যানাল, মতিউল ইসলাম হিরু, এ. ওয়াই. এম মহসীন, কৃষ্ণচন্দ্র পাল , সর্দার নিসার আহমেদ , শহীদুল্লাহ শহীদ ও প্রয়াত হাসান আলী। এই বিদ্যালয়েই প্রথম পদ্ধতিগত ভাবে সংগীত শিক্ষা দেয়া হয়। বাঁশরীর পথ ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় মুন্সীগঞ্জ সংগীত একাডেমী ,সোফিয়া সংগীত বিদ্যালয়। তৈরী  হতে থাকে  শিল্পী ও প্রশিক্ষক।

  নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে শহরের  জগধাত্রী মন্দির সংলগ্ন  নাট্য মঞ্চ অগ্রনী ভূমিকা পালন করে। পঞ্চাশ  দশকের আগে থেকেই বেশ কিছু নাটক এখানে মঞ্চস্থ হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে মুন্সীগঞ্জের নাট্যাঙ্গণে সুনিপুনভাবে নাট্য চর্চায় ব্রত দলটির নাম প্রবাহ নাট্যগোষ্ঠী। তাছাড়া ঘাস-ফুলুনদী ও সৌখিন নাট্যচক্র মুন্সীগঞ্জের নাট্যাঙ্গনের পথিকৃত। এদের পথ ধরেই  মুন্সীগঞ্জে গড়ে উঠে অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী, মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার, থিয়েটার সার্কেল সহ অনেক নাট্য সংগঠন। মুন্সীগঞ্জের নৃত্য সংগীত ও নাটকের মতই সমৃদ্ধ।

 

 যেসব সাংস্কৃতিক সংগঠন মুন্সীগঞ্জজেলায় বিভিন্ন সময়ে সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনে অবদান রেখেছে সে সমস্ত সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:-

(১)  জেলা  শিল্পকলা একাডেমী  , (২) প্রবাহ নাট্যগোষ্ঠী,   (৩) ঘাস ফুল  নদী সাহিত্য  ও  সাংস্কৃতিকগোষ্ঠী,       

(৪)  অনিয়মিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী , (৫)সৌখিন নাট্যচক্র, (৬) মুন্সীগঞ্জ সংগীত একাডেমী, (৭) মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার, (৮) মুন্সীগঞ্জ থিয়েটার সার্কেল, (৯) চিত্রাংকন বিদ্যালয় , (১০)সোফিয়া সংগীত বিদ্যালয়, (১১) জয় জয়মন্তী জলসা সংগীত একাডেমী, (১২) মুন্সীগঞ্জ সিটি অংকন বিদ্যালয় (১৩) নাট্যবিন্দু , বালিগাও।

মুন্সীগঞ্জ তথা বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এমন কয়েকজন মুন্সীগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ত্বের নাম:

চাষী নজরুল ইসলাম( চলচ্চিত্রকার), আবদুল জব্বার খান( বাংলা চলচ্চিত্রের জনক), টেলি সামাদ( চলচ্চিত্র অভিনেতা)

আবদুল কাদের( বিশিষ্ট অভিনেতা), গওহর জামিল(নৃত্য শিল্পী ও নৃত্য পরিচালক), মোহাম্মদ আবু তাহের( কথা সাহিত্যিক ও নাট্যকার), আবদুর রহমান বয়াতী( বাউল শিল্পী), সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়( চলচ্চিত্র অভিনেত্রী), লায়লা হাসান ( নৃত্য  শিল্পী ও অভিনেত্রী ), নাজমা আনোয়ার ( অভিনেত্রী ), ফেরদৌস  ওয়াহিদ ( জনপ্রিয়  কন্ঠশিল্পী ),

হাবিব( সংগীত পরিচালক ও গায়ক), বালাম(সংগীত পরিচালক ও গায়ক), শিরীন বকুল( অভিনেত্রী), রিয়া( নৃত্য শিল্পী ও মডেল),শিল্পী আব্দুল হাই(সংগীত , চিত্র, নাটক), শ্রী জিতেন চক্রবর্তী(নাটক), সরবিন্দু সেন(নাটক, আবৃতি), শ্রী মন্মথ মুখার্জি(সংগীত , তবলা), গিয়াস উদ্দিন আহমেদ( নাটক), মিজানুর রহমান ( সংগীত, নাটক)।